শনিবার ২১ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
স্বাস্থ্য

বয়সের ছাপ পড়ছে ত্বকে? কোলাজেনসমৃদ্ধ খাবার হতে পারে কাযর্কর সহায়ক

বাসিতা আফরোজ ইরা ২৩ জানু ২০২৬ ০৫:০৫ পি.এম

ত্বকে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও টানটান ভাব কমে আসা একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ শরীরে কোলাজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমে যাওয়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে—খাবারের মাধ্যমেই কি কোলাজেনের ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব?

কোলাজেন হলো এক ধরনের প্রোটিন, যা ত্বক, চুল, নখ ও সংযোজক টিস্যুর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বককে দৃঢ় ও মসৃণ রাখতে কোলাজেন অপরিহার্য। যদিও শরীর নিজেই কোলাজেন তৈরি করে, তবু বয়স, দূষণ, অতিরিক্ত রোদে থাকা এবং অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে এর উৎপাদন কমে যেতে পারে।

কোলাজেনসমৃদ্ধ ও কোলাজেন-বর্ধক খাবার

পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু খাবার সরাসরি কোলাজেন সরবরাহ করে, আবার কিছু খাবার শরীরের কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে।

হাড়ের ঝোল (Bone Broth): গরু বা মুরগির হাড় দীর্ঘক্ষণ সেদ্ধ করে তৈরি ঝোল প্রাকৃতিক কোলাজেনের ভালো উৎস।

মাছ ও সামুদ্রিক খাবার: বিশেষ করে মাছের চামড়া ও কাঁটায় কোলাজেনের পরিমাণ বেশি থাকে।

ডিম: ডিমের সাদা অংশে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক।

ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল: কমলা, লেবু, আমলকী ও পেয়ারা কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

সবুজ শাকসবজি ও বাদাম: জিঙ্ক ও কপারসমৃদ্ধ খাবার ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মত

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র খাবারের উপর নির্ভর করে ত্বক “তাৎক্ষণিকভাবে” টানটান হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তবে নিয়মিত কোলাজেনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের গুণগত মান উন্নত হতে পারে।

সৌন্দর্যের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমানে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট ও কসমেটিক পদ্ধতির পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও খাদ্যনির্ভর সৌন্দর্যচর্চার দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সঠিক ঘুম—এই তিনের সমন্বয়েই ত্বক ভালো রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ত্বক টানটান রাখার দৌড়ে তাই প্লেটের দিকে তাকানোই হতে পারে প্রথম এবং সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।